নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে চলছে মাছ ধরার উৎসব

সরকারি নিষেধাজ্ঞায় ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর নদীতে মাছ শিকার শুরু হয়েছে পুরোদমে। দীর্ঘ ৬৫ দিন অলস সময় কাটানোর পর নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন লক্ষাধিক জেলে। মাছ ধরা যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী গত ২৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে জেলেদের নদীতে মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। ইতোমধ্যে তারা জাল ও নৌকা মেরামতের কার শেষ করেছে। নিষেধাজ্ঞায় উঠে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলে পরিবারগুলোতে। কর্তৃপক্ষের দাবি কর্মসূচি সফল হওয়ায় এবছর ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। এছাড়াও জেলেদের নিরাপত্তা দিতেও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান। তবে কৌতুহল সৃস্টি হয়েছে এবার ২৪ জুলাই মাছ ধরা শুরু যেখানে সেখানে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরেছে কিছু জেলেরা। প্রথম চালান হিসেবে বিক্রিও চড়া দামে হচ্ছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা উৎসবমুখর পরিবেশে বিনা বাধায় মাছ ধরতে সাগরে নেমেছে। জেলার বিভিন্ন মাছের আড়ৎ গুলোতে ফিরেছে প্রানচাঞ্চল্য। ব্যস্ত হয়ে উঠেছে জেলে ইলিশ ব্যবসায়ীরা।

সুত্রে জানা গেছে, পরিবেশ অনেকটাই অনুকূলে থাকায় শুরুতেই কক্সবাজারের লক্ষাধিক জেলে গভীর সাগরে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বলে জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি। তবে বরাবরের মতো এবারো জেলেদের উপর ভর করে বসেছে ‘জলদস্যু’ আতঙ্ক।

জেলে ও ট্রলার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকার পর আজ থেকে কক্সবাজারে আবারো শুরু হয়েছে মৎস্য আহরণ মৌসুম। এ উপলক্ষে উপকূলীয় জেলেদের মাঝে বেড়েছে কর্ম ব্যস্ততা। ব্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলে পল্লীগুলো।

জেলেদের পদচারণায় মূখরিত হতে শুরু করছে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। দূর-দূরান্ত থেকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন পাইকার ও আড়তদাররা। ব্যস্ততা বেড়েছে বরফ কলগুলোতেও। জেলে পল্লীগুলোতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির জন্য দম ফেলানোর ফুরসত নেই যেন কারোই।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান জানান, জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে প্রায় ৪২ হাজার। এছাড়াও নতুন জেলেদের নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক ফিশিং বোটের সংখ্যা প্রায় ৪৭’শ। কক্সবাজার বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত এসব মৎস্য স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি হচ্ছে দেশবিদেশে।

তবে বোট মালিক ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, কক্সবাজারে জেলেদের সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলার পুরোপুরি এবং পেকুয়া ও টেকনাফের কিছু এলাকা ভৌগলিক কারণেই জেলে অধ্যুষিত। এসব এলাকায় অন্তত লক্ষাধিক জেলে পরিবারের বসবাস। যারা বংশ পরম্পরায় পেশাজীবী জেলে। এসব জেলেদের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ শিকার।

এদিকে সামুদ্রিক উৎস্য থেকে আহরিত মাছ শুকিয়ে শুটকি হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও কক্সবাজারের শুটকি মাছের কদর রয়েছে। কক্সবাজারে সামুদ্রিক উৎস্য থেকে শুটকি উৎপাদনের স্থান রয়েছে ২০টিরও অধিক। এসব শুটকি পল্লী গুলোতেও চলছে প্রস্তুতির ধুম। কক্সবাজারে সবচেয়ে বড় শুটকি পল্লী সমিতিপাড়া এলাকার নাজিরারটেক শুটকি মহাল। এ শুটকি মহালে ব্যবসায়ী রয়েছে ২ হাজারের মতো। আর এখানে নারী পুরুষ ও শিশু মিলে প্রায় ১৮ হাজারের মতো শ্রমিক এক সাথে কাজ করে। আগামি কয়েক সপ্তাহ পরে শুটকি পল্লীতে মাছ সংগ্রহ শুরু হবে।

নাজিরারটেক এলাকার জেলে কায়সার জানান, টানা ৬৫ দিন মাছ ধরতে পারিনি। একারণে সংসারে চরম অভাব নেমে এসেছে। এমনকি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

অতীতের বছরগুলোতে জেলেরা সমুদ্রে জলদস্যুদের হামলা, লুণ্ঠন এবং মুক্তিপণ বানিজ্যে দিশেহারা থাকলেও এবার জলদস্যু দমনে সরকারের বিশেষ ভূমিকা কামনা করেন মৎস্যজীবীরা। সাগরে নিরাপত্তা বাড়লে অতীতের তুলনায় এবার প্রান্তিক জেলের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাছ ব্যবসায়ী শাহেদ জানান, ৬৫ দিন জেলে ও ব্যবসায়ীরা আসলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন মাছ ধরা শুরু হয়েছে ব্যবসাও ভালো হবে আশা করছি।

কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ বলেন, উৎসবমূখর পরিবেশে মাছ আহরনে জেলেরা সাগরে নেমেছেন ঠিক আছে কিন্তু জলদস্যু আতঙ্ক কাটছে না। গত বছরের মতো এবারো জলদস্যূ তান্ডব অব্যাহত থাকলে সাগরের মৎস্য আহরণ থেকে মূখ ফিরিয়ে নেবে বোট মালিক ও জেলেরা। তাই জলদস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন