শপথ নিই, চিকিৎসকরা কখনো কমিশন নেব না’

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে রোগীদের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে চিকিৎসকদের কমিশন না খাওয়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন আজ থেকে শপথ নিই, আমরা চিকিৎসকরা কখনো কোনো কমিশন নেব না।

রোববার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ-ব্লক মিলনায়তনে ‘কমিউনিকেশন স্কিল অ্যান্ড ডক্টর পেশেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, চোখের চিকিৎসকদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসার সুযোগ কম হয়। কারণ চোখের চিকিৎসায় পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন কম হয়, এজন্য চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা কম দেন। কমিশন সব চিকিৎসক নেন না। অল্পকিছু চিকিৎসক কমিশন গ্রহণ করতে পারে। যার ফলে সব চিকিৎসকের বদনাম হয়।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছু রোগী চিকিৎসকের কাছে আসেন যাদের কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকরাও এক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা দেন না। কিন্তু কিছু কিছু রোগী পরীক্ষা নিরীক্ষা না লেখার কারণে চিকিৎসকের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়। যেসব ইনভেস্টিগেশন প্রয়োজন নাই, সেটি আমরা কোনো অনুরোধেও দেব না।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের মতো করে যদি সারাদেশে রোগীকে কনসালটেন্সি করা যেত তাহলে রোগী ও তার স্বজনদের কোনো অভিযোগ থাকত না। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৩ ঘণ্টায় ২০ জনের বেশি রোগী দেখা হয় না এবং রোগী প্রতি চিকিৎসকে কমপক্ষে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করতে হয়।

উপাচার্য বলেন, হাসি মুখে রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। রোগী কেমন আছেন, কি চায়, কি সমস্যা নিয়ে আসছে এসব বিষয় চিকিৎসককে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসককে রোগীর মূল সমস্যা কি তা জানার জন্য একাধিকবার প্রশ্ন করা যেতে পারে। রোগীকে তার কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। রোগী যদি একই কথা বার বার বা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলে, তবে এর মধ্য দিয়েও একজন চিকিৎসক মূল সমস্যাটি বের করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য হাসপাতালের সব কাগজপত্র আপডেট রাখা প্রয়োজন। যে রোগী যে চিকিৎসকের কাছে আসেন, সেই চিকিৎসককেই রোগীকে দেখতে হবে। রোগীর কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসক না থাকলে সেটিও ভর্তি রোগীকে অবহিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, আমরা যদি রোগীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি, রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারি, আমরা যদি চিকিৎসকের মহৎ পেশাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে আমাদের আরও ভালো হতে হবে। রোগীর সেবায় রোগীকে আমাদের (চিকিৎসক) পরিবারের সদস্যের মতো ভেবে সেবা করতে হবে। তাহলে কোনো রোগী বলবে না যে, আমরা তাদেরকে ঠিক মতো দেখি না। সততা, ডিসিপ্লিন, টাইম মেইনটেনিং আমাদের জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তীতা মেনে চলার আহ্বানও জানান উপাচা

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com