টানা বৃষ্টিতে অর্ধেকে নেমেছে তাদের আয়

টানা বৃষ্টির প্রভাবে প্রায় থমকে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুরের জনজীবন। এই বৃষ্টিতেও এক প্রকার পেটের দায়েই প্রতিনিয়তই বাইরে বের হতে হচ্ছে রিকশাচালক, শ্রমিক ও দিনমজুরদের। তবে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করলেও অর্ধেকে নেমেছে তাদের রোজগার।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে হচ্ছে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিপাত। যার প্রভাব পড়েছে জনজীবনে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিরোজপুরে গত এক সপ্তাহ ধরেই চলছে টানা বৃষ্টিপাত। এমন পরিস্থিতিতেও পেটের দায়ে কাজে বের হয়েছেন শ্রমিক-দিনমজুররা। অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাবে তাদের আয় নেমেছে অর্ধেকে। যেখানে আগে প্রতিদিন আয় হতো ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা সেখানে আয় নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর যারা গাড়ি ভাড়ায় নিয়ে চালান তাদের অবস্থা আরও দুর্বিষহ।

এদিকে পিরোজপুর পৌরসভায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ রিকশা চালিয়ে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। বৃষ্টিতে ভিজে হলেও
তারা কাজে বের হচ্ছেন তা না হলে পরিবারের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে। এদিকে এই পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা মেলে দিনমজুরদের সঙ্গে। সড়কের পাশেই ছোট ঝুড়িতে শাক-সবজি, পান, দেশীয় ফলসহ নানা জিনিসপত্র সাজিয়ে বসেন ভ্রাম্যমাণ এসব বিক্রেতারা। গ্রাম থেকে নিয়ে আসা তাদের টাটকা কৃষি পণ্য বিক্রি করে যেখানে সংসার চলতো তাদের, সেখানে টানা বৃষ্টির কারণে লাভবান হওয়া তো দূরের কথা মূল খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

রিকশাচালক পান্না শেখ বলেন, বর্ষার কারণে কয়েকদিন আমাদের ইনকাম হয় না বললেই চলে। যা হয় তাতে চলতেই কষ্ট হয়।লোকজন রাস্তায় বের হয় না। আগে যে ইনকাম হতো তার তিন ভাগের এক ভাগও এখন হয় না। তবুও পরিবারের কথা চিন্তা করে বৃষ্টিতে ভিজে হলেও রাস্তায় নামতে হয়।

আরেক রিকশাচালক মামুন খান বলেন, রোদ থাক বৃষ্টি থাক শুকনা বা ভেজা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন রিকশাচালাতে বের হতেই হয়। কারণ দিনশেষে পেটের দায়েই রাস্তায় নামতে হয় উপার্জনের জন্য। বর্ষায় তো ভিজেই গাড়ি চালাতে হয় তবুও বৃষ্টি থাকলে তো আয় ইনকাম খুবই কম হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে ইনকাম একটু হয়।

দিনমজুর নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, আমরা যে কাঁচামাল নিয়ে আসি তা ঠিকমতো বিক্রি করতে পারি না বৃষ্টি বাদলের কারণে। লোকজন ঘর থেকে বের হয় না। চালকুমড়া-বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজি নিয়ে এসেছি। ব্যবসার মূল টাকা কখনো ওঠে আবার বেশিরভাগ সময়ই ওঠে না।

জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মজনু তালুকদার বলেন, পিরোজপুর জেলায় ইজিবাইক ও রিকশা চালকদের খুবই দুর্দশা। আজকে পর্যন্ত টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে গাড়ি ঠিকমত চলতে পারছে না। পানিতে বিভিন্ন এলাকা থৈ থৈ করছে। যার কারণে শ্রমজীবী মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে ভুগছে। তাদের সহযোগিতা করা একান্ত প্রয়োজন। এই মুহূর্তে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানোর ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পিরোজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শহিদুল ইসলাম শিকদার বলেন, পিরোজপুর পৌরসভায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করেন। যাদের বিভিন্ন সময় সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে টিসিবি এবং ওএমএস এর পণ্য প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। এছাড়া পিরোজপুর পৌরসভার পক্ষ থেকেও তাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।

জেলা কৃষি অবস্থার পরিস্থিতি জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষি ক্ষেত্রে জেলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নাই। তবে বেশি বৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি স্থায়ী হলে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সর্বিক খোঁজ-খবর রাখছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিপাত এই সময়ে দরকার। তবে কয়েকদিন ধরে একটু বেশিই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আমরা আমাদের মৎস্যজীবিদের সার্বক্ষনিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি। যাতে অতিবৃষ্টির কারণে মাছ ঘের থেকে বের হয়ে যেতে না পারে। এদিকে এ সময়ে ফলনের ব্যাপরেও চাষীদের মৎস্য বিভাগ থেকে অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া যারা সমূদ্রে মাছ ধরে তারা আমাদের তথ্য মতে নিরোপদে আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে যাতে তারা কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়ে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আজকের দিন-তারিখ
  • সোমবার (সন্ধ্যা ৭:৪৫)
  • ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
  • ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com