ত্বক ফর্সাকারী গ্লুটাথিয়ন ব্যবহারে রয়েছে মারাত্মক বিপদ!

রূপ, সৌন্দর্য বাড়াতে আজকাল অনেকেই ভরসা রাখছেন গ্লুটাথিয়ন সমৃদ্ধ ক্রিম, ওষুধ, ইনজেকশন ব্যবহারের ওপর। কিন্তু এগুলো ব্যবহার করা কি নিরাপদ, তা অনেকেই বিস্তারিত জানেন না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চিকিৎসাশাস্ত্রে গ্লুটাথিয়নসমৃদ্ধ ক্রিম, ওষুধ, ইনজেকশন ব্যবহারের ভালো দিক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে পাশ্বপ্রতিক্রিয়া।

এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন ভারতের এইমস-এর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দীপ্র বিশ্বাস।
 
তিনি জানান, গ্লুটাথিয়ন হলো একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীর নিজে থেকেই তৈরি করতে পারে এবং কিছু খাবার থেকেও পাওয়া যায়। আবার বাইরে থেকে এটি ব্যবহার করা যায় ক্রিম, ওষুধ, ইনজেকশনের মাধ্যমে।
 
এটি শরীরের কোষকে ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিক্যাল থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রোদ-ধুলাবালি ও দূষণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে গ্লুটাথিয়ন।
 
চিকিৎসকরা বলছেন, গ্লুটাথিয়নের উপকারিতার জন্য অনেকেই এখন বয়স ধরে রাখতে এবং দাগহীন ত্বক ফর্সা করতে এটি ব্যবহার করছেন। আর এখানেই রয়েছে বিপদের শঙ্কা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শে অনেকেই গ্লুটাথিয়ন ক্রিম, ওষুধ, ইনজেকশন ব্যবহার করছেন। কিন্তু অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না যে এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার শরীরে তৈরি করতে পারে নানা জটিলতা।
 
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দীপ্র বিশ্বাস বলেন, 

গ্লুটাথিয়ন সমৃদ্ধ ক্রিম, ওষুধ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হওয়ার পাশাপাশি জ্বালাপোড়া ও অ্যালার্জির সমস্যায় পড়তে পারেন।

 

দীপ্র বিশ্বাস আরও বলেন, 

গ্লুটাথিয়ন ইনজেকশন নেয়ার পর হৃদরোগের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা, চুল পাকা, ওজন বাড়ার সমস্যাগুলোও শরীরে দেখা দিতে পারে।

 

হঠাৎ গ্লুটাথিয়ন ক্রিম, ওষুধ, ইনজেকশন ব্যবহার বন্ধ করে দিলে কী হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্লুটাথিয়ন ক্রিম, ওষুধ, ইনজেকশন ইন্সট্যান্ট ত্বক উজ্জ্বল করতে পারে। আবার এটির ব্যবহার হঠাৎ বন্ধ করলে ত্বকে দেখা দিতে শুরু করে রিয়েকশন। ত্বকে তখন মেলানিন উৎপাদন শুরু হয় এবং আগের আসল স্তরে ত্বক ফিরে যায়। এতে গায়ের রং হয়ে ওঠে আরও মলিন ও নির্জীব।
 
তাহলে করণীয় কী?
 
ডা. দীপ্র বিশ্বাস বলেন, শরীরে গ্লুটাথিয়নের উপকারিতা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে শরীরে তা সাপ্লিমেন্ট বা বাইরে থেকে প্রয়োগ ক্ষতিকর ও বিপদজনক। তাই গ্লুটাথিয়নের উপকারিতা পেতে খাদ্যাভাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। এর জন্য খেতে হবে ভিটামিন সি ও গ্লুটাথিয়ন সমৃদ্ধ খাবার।
এ চিকিৎসক আরও বলেন, যে কোনো টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। অন্যদিকে গ্লুটাথিয়ন সমৃদ্ধ খাবারের জন্য নিয়মিত ডায়েট লিস্টে রাখতে পারেন প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি। অ্যাভোকাডো, পালং শাক, ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, এবং স্কোয়াশে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে গ্লুটাথিয়ন রয়েছে। ত্বকের সৌন্দর্য ও বয়স ধরে রাখতে এগুলো নিয়মিত খেতে পারেন।
 
 
ডায়েট লিস্টে গ্লুটাথিয়ন সমৃদ্ধ খাবার রাখার পাশাপাশি লাইফস্টাইলে আনুন কিছু পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মদ্যপান, ধূমপানের মতো খারাপ অভ্যাসগুলো শরীরে মানসিক চাপ ‘রিয়াকটিভ অক্সিজেন’ তৈরি করে। এতে শরীরে গ্লুটাথিয়নের প্রয়োজন বেড়ে যায়। তাই যতটা সম্ভব বাজে অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলুন। রাত জাগার অভ্যাস বাদ দিন। নিয়মিত ৮ ঘণ্টার ঘুম নিশ্চিত করুন। তাহলেই গ্লুটাথিয়ন সমৃদ্ধ খাবার থেকে প্রাকৃতিকভাবে উপকারিতা পেতে শুরু করবেন। ত্বক হতে শুরু করবে প্রাকৃতিকভাবে দাগহীন, উজ্জ্বল। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

 

পুরানো সংবাদ
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১