মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং ওষুধ না খাওয়াই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উপেক্ষিত এমন অনেক অভ্যাস বা কারণ রয়েছে, যেগুলো নীরবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। কী সেসব কারণ আর কিভাবেই বা সেগুলো থেকে নিরাপদ থাকবেন জেনে নিন—
অপর্যাপ্ত ঘুম : রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের অভাবে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখার চেষ্টা করুন এবং ঘুমানোর আগে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
মানসিক চাপ : মানসিক বা শারীরিক চাপ হরমোনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে কর্টিসল রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন ১০ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, হালকা হাঁটাহাঁটি বা মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলন এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
পানিশূন্যতা : শরীরে পানির অভাব হলে রক্তে শর্করার ঘনত্ব বেড়ে যায়।
কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ : স্টেরয়েড ও অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট জাতীয় কিছু ওষুধ সেবনে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ওষুধের রুটিনে কোনো পরিবর্তন করার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
খাবারে দীর্ঘ বিরতি : খাবারের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি লিভারের সঞ্চিত শর্করার মুক্তির কারণ হতে পারে।
তাই নিয়মিত বিরতিতে এমন খাবার খান যাতে পরিমিত পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট আছে।
কৃত্রিম মিষ্টি : ক্যালরিমুক্ত হলেও, কিছু কৃত্রিম মিষ্টি শরীরের ইনসুলিন প্রতিক্রিয়াতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উৎস বিবেচনা করুন।
প্যাকেটজাত খাবারে লুকানো চিনি : ‘স্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বাজারজাত করা অনেক খাবারেও চিনির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।
তাই কেনার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন।
অসুস্থতা বা সংক্রমণ : হালকা জ্বর থেকে শুরু করে মূত্রনালির সংক্রমণ পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই শরীর স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। অসুস্থতার সময় তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখুন।
হরমোনের পরিবর্তন : নারীদের মাসিকের সময়, গর্ভাবস্থায় বা মেনোপজের সময় প্রায়ই রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা করে। এই প্যাটার্ন খেয়াল করে প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম : পর্যাপ্ত পুষ্টি ছাড়া বেশি ব্যায়াম স্ট্রেস হরমোনের কারণ হতে পারে। যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যায়ামের সঙ্গে সঠিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, সুষম খাবার খাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া আর শরীরের প্রতিক্রিয়াগুলোর প্রতি লক্ষ রাখা উচিত। তাহলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাধারণ কিছু অভ্যাস আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে অনেক সাহায্য করতে পারে।



































