গরম বৃষ্টির দিনে স্নিকার ট্রেন্ড

স্নিকার এখন আর শুধুই আরামদায়ক জুতা নয়, বরং একেকটি ফ্যাশনের স্টেটমেন্ট। বিশেষ করে এ বছর স্নিকার হয়ে উঠেছে স্টাইল, আত্মপ্রকাশ ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন।

আগের মতো আর মোটা সোল কিংবা সাধারণ রংয়ে সীমাবদ্ধ নয়, এবার বাজার দখল করছে নিচু প্রোফাইল, রঙিন, আর নানান সাজে পরিপূর্ণ স্নিকার।

সাধাসিধে স্নিকার: পরিমিত সৌন্দর্য

স্নিকার জগতে দেখা যাচ্ছে একটি বড় পরিবর্তন। ক্রেতারা সাধারণ নকশার মিডসোলের দিকে অনেক বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন ব্র্যান্ড ‘রিবক’-এর ‘ক্ল্যাসিক্স ফুটওয়্যার প্রোডাক্ট’য়ের কর্মকর্তা জেন রাউ বলছেন, “আমরা দেখছি মিডসোল ক্রমেই নিচু হচ্ছে, যেন তা চোখেই না পড়ে। এই ধারা চাংকি প্ল্যাটফর্ম স্নিকারের যুগ থেকে একেবারে ভিন্ন।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ট্রেন্ড নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকের প্রারম্ভিক ফ্যাশনের প্রভাব বহন করছে।

উজ্জ্বল রংয়ের ঝলক: মেজাজে রঙিন ছোঁয়া

রংয়ে-রূপে ভরপুর স্নিকার এই গ্রীষ্মে খুব জনপ্রিয়। তরুণদের মধ্যে এ ধরনের স্নিকারের প্রতি অনেক বেশি আগ্রহ বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়া’র জুতার ব্র্যান্ড ‘ফ্র্যাঙ্কিফোর’-এর পরিচালক গ্যাব্রিয়েল থম্পসন বলেন, “নিরপেক্ষতা ও ন্যূনতমতার মাঝেও উজ্জ্বল রং এক নতুন আশার বার্তা হয়ে আসে। সাদা বা বেইজ রংয়ের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এই উজ্জ্বল স্নিকারগুলো সহজেই নজর কাড়ে।”

এটি মূলত ‘ডোপামিন ড্রেসিং’ ধারারই একটি প্রকাশ। ডোপামিন ড্রেসিং- হল এমন একটি ফ্যাশন প্রবণতা, যেখানে মানুষ মন ভালো করার জন্য রঙিন, প্রাণবন্ত, সাহসী বা পছন্দসই পোশাক পরেন।

সহজভাবে বললে যেসব পোশাক পরে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস বা উত্তেজনা অনুভব হয় তাই ডোপামিন ড্রেসিংয়ের উদাহরণ।

স্নিকারিনা: নৃত্যের সৌন্দর্যে স্বাচ্ছন্দ্যব

‘ব্যালেই শু’ এবং ‘স্নিকার’য়ের মিশ্রণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক ট্রেন্ড ‘স্নিকারিনা’। ‘ব্যালেই শু’ বা ‘ব্যালেই ফ্ল্যাট’ হল এক ধরনের হালকা, নিচু এবং নমনীয় জুতা, যার নকশা মূলত ব্যালেই নৃত্যশিল্পীদের ব্যবহৃত জুতার অনুপ্রেরণায় তৈরি।

তবে এটি এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় একটি জনপ্রিয় স্টাইল আইকন হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে নারীদের জন্য।

ক্যালিফোর্নিয়া’র ‘ব্লোফিশ মালিবু’-এর জ্যেষ্ঠ নকশাকর জো ক্লাং বলেন, “এগুলো আধুনিক, আরামদায়ক এবং এক ধরনের ‘কুল-গার্ল’ আবহ তৈরি করে। এই স্নিকার ম্যাক্সি ড্রেস ও গোড়ালি পরিপূর্ণ অলঙ্কারে সাজিয়ে পরলে একেবারে চমৎকার লাগে।”

প্রাণী প্রিন্টের দাপট: সাহসী পায়ের ছাপ

চিতা, গরুর চামড়ার ছাপ কিংবা সাপের চামড়ার নকশা অর্থাৎ প্রাণী প্রিন্টের জয়জয়কার চলছে স্লিকার ফ্যাশনে।

জেন রাউ বলেন, “সড়ক ফ্যাশন ও বিলাসবহুল পোশাকে প্রাণী প্রিন্টের আগমন দারুণভাবে স্নিকার জগতেও ঢুকে পড়েছে।”

এই বিশেষজ্ঞর মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ প্রবণতা এতে ভূমিকা রেখেছে।

অলংকৃত স্নিকার: নিজেকে জানান দেওয়ার উপায়

জুতা কি আর শুধু জুতা থাকে? চার্মস, লেইস লক, এমনকি নিজের মতো করে সাজানো সুতা সবই এখন স্নিকারের অঙ্গ।

জো ক্লাং বলেন, “এই ধারা তরুণদের নিজেকে প্রকাশ করার প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। টিকটক ও অন্যান্য মাধ্যমে নানান সৃজনশীলতা একে জনপ্রিয় করে তুলেছে।”

পুরানো দিনের ছায়া: রেট্রো নকশা ও রং

ইতালির ব্র্যান্ড ‘ডলচে ভিটা’র ডিজাইন বিভাগের সহ-সভাপতি মনিক রিভেরা বলছেন, “সত্তর দশকের স্লিম স্নিকার ডিজাইন দেখা যেত আবার নব্বই দশকের নরম সোয়েড আর গাঢ় রং যেমন- মেরুন, চকলেট বাদামি, জলপাই ও নেভি রংও ফিরে আসছে।”

এই নস্টালজিক ছোঁয়া এখন ফ্যাশনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করে মনিক রিভেরা।

বোনা কাপড়ের স্নিকার: আরামের আধুনিকতা

অস্ট্রেলিয়ার ‘বেয়ারড ফুটওয়্যার’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্না বেয়ারড বলেন, “এই হালকা, বাতাস চলাচলযোগ্য, সহজে বহনযোগ্য স্নিকারগুলো দারুণভাবে মিলে যায় আধুনিক জীবনের সঙ্গে।”

অফিস হোক বা সফর সবখানেই মানানসই এই জুতা। সাদা ডেনিম বা হালকা কোটের সঙ্গে মিলিয়ে স্টাইলও করা যায়।

মাটির মতো নরম রং: স্থিতিশীলতার সৌন্দর্য

জো ক্লাং বলেন, “বালির রং, ক্রিম বা ধুসর এই ধরনের স্নিকার শান্ত সৌন্দর্য প্রকাশ করে। আভিজাত্য ও টেকসই ফ্যাশনের সঙ্গে এই রংয়ের মিল রয়েছে।”

এই স্নিকার দিয়ে একই রংয়ের পোশাকে টেক্সচারের বৈচিত্র্য এনে পরিপূর্ণ ‘লুক’ তৈরি করা যায়।

ধাতব ঝলকানি: আভিজাত্য ও সাহস একসঙ্গে

গ্যাব্রিয়েল থম্পসন বলেন, “রানওয়ের ঝলক ও দুই হাজার দশকের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ধাতব না ম্যাটালিক রংয়ের স্নিকারগুলো দারুণভাবে ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে। ডেনিম, ফিটেড প্যান্ট বা এমনকি সাদামাটা স্লিপ ড্রেসের সঙ্গে মিলে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

 

পুরানো সংবাদ
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১