কোন ঘরে কোন গন্ধ সবচেয়ে মানানসই

ঘর শুধু পরিচ্ছন্ন রাখলেই হয় না, সঙ্গে থাকতে হবে মনকাড়া সুবাস।

কারণ অনুভূতি, স্মৃতি এমনকি মেজাজের ওপরেও প্রভাব ফেলে গন্ধ । একটি ঘরের জন্য যেই সুবাস মনমুগ্ধকর মনে হয়, তা অন্য ঘরে ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।

এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সাবান ও মোমবাতির বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘প্রক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বল’য়ের বিজ্ঞানীরা ঘরের বিভিন্ন অংশে কোন ধরণের সুবাস মানুষ পছন্দ করে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন।

রিয়েল সিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী অ্যারিয়ানা ক্যাস্ট্রো এবং ‘পি.এফ. ক্যান্ডেল কোং’–এর প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টেন পামফ্রে এবং ‘রেঞ্জার স্টেশন’য়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পারফিউমার স্টিভ সোডারহোম ঘরের প্রতিটি অংশের জন্য মানানসই সুবাস সম্পর্কে তাঁদের মতামত দিয়েছেন।

প্রবেশপথে প্রথম মুগ্ধতা

বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তটাই প্রথম ছাপ ফেলার সেরা সময়। এই প্রবেশপথে তাই দরকার এমন এক গন্ধ যা তাজা এবং শক্তিশালী।

স্টিভ সোডারহোম বলেন, “প্রবেশপথে আমি এমন সুবাস ব্যবহার করতে পছন্দ করি যা শুরুর নোটেই প্রভাব ফেলে। মসলাদার বা সিট্রাস ধর্মী কিছু হলে সেটি দারুণ কাজ করে।”

শয়নকক্ষে প্রশান্তির পরশ

শয়নকক্ষ এমন এক স্থান যেখানে চাই নিঃশব্দ বিশ্রাম আর প্রশান্তি। তাই এখানে এমন সুবাস দরকার যা ঘুমের পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে।

অ্যারিয়ানা ক্যাট্রো বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমঘরে মানুষ শান্তিদায়ক গন্ধ পছন্দ করে। যেমন- ল্যাভেন্ডার, তুলসির মতো তাজা সুগন্ধ বা পরিষ্কার কাপড়ের ঘ্রাণ।”

ক্রিস্টেন পামফ্রে’র মতে, “লেমন ভারবেনা, ল্যাভেন্ডার, বার্গামট এবং জেসমিন এসব গন্ধ প্রশান্তি আনে। তবে কেউ যদি রোমান্টিক পরিবেশ চায়, তাহলে মিশরীয় চন্দন কাঠ, কস্তুরী, অ্যাম্বার, গার্ডেনিয়া কিংবা সিডারউড ব্যবহার করতে পারেন।”

সোডারহোম বলেন, “শয়নকক্ষ নিজের স্থান, তাই নিজের পছন্দকেই গুরুত্ব দিতে হবে। আমি সাধারণত অ্যাম্বার ধর্মী গন্ধ ব্যবহার করি।”

বৈঠকখানায় উষ্ণতার আবেশ

ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বৈঠকখানা। এখানেই পরিবার-পরিজনের আড্ডায় বসে, অতিথি আপ্যায়ন হয়। এই ঘরের জন্য চাই এমন সুবাস যা উষ্ণতা ও সম্পর্কের বন্ধনকে জোরদার করে।

ক্যাস্ট্রো বলেন, “গবেষণায় দেখা গেছে, উজ্জ্বল গন্ধ যেমন- ট্রপিক্যাল ফল, ল্যাভেন্ডার, ভ্যানিলা, এমনকি সামুদ্রিক সুবাস বৈঠকখানায় এক ধরনের আনন্দময়, আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।”

অন্যদিকে পামফ্রে বলেন, “মৌসুমি গন্ধ ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন- বসন্ত ও গ্রীষ্মে ফলমূল ও ফুলের ঘ্রাণ, আর শীতে চন্দন কাঠ, দারুচিনি বা পাইন ধর্মী উষ্ণ সুবাস মানানসই।”

সোডারহোম বলেন, “এখানে দীর্ঘ সময় থাকা হয়। তাই এমন কিছু নির্বাচন করতে হবে যা অতিরিক্ত তীব্র নয়। কাঠের সুবাস বেশিরভাগ মানুষের কাছেই আরামদায়ক।”

রান্নাঘরে সতেজতা ও স্বাভাবিকতা

রান্নাঘরের সুবাস এমন হওয়া উচিত যা রান্নার গন্ধের সঙ্গে সংঘাত না তৈরি করে, বরং পরিবেশকে সতেজ করে।

পামফ্রে’র মতে, “তাজা, ভেষজ ও নিরপেক্ষ গন্ধ রান্নাঘরের জন্য আদর্শ। যেমন- রোজমেরি, তুলসি, ক্যামোমাইল, সেজ, পুদিনা, লেবু, মৌরি ইত্যাদি।”

ক্যাট্রো বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, রান্নাঘরে লেবু, আঙ্গুর বা আপেলের মতো সিট্রাস ফলের সুবাস জনপ্রিয়। এগুলো জায়গাটিকে প্রাণবন্ত ও পরিষ্কার রাখে।”

বাথরুমে পরিচ্ছন্নতার সুবাস

বাথরুমে চাই পরিষ্কার, সতেজ এবং শক্তিশালী ঘ্রাণ।

পামফ্রে পরামর্শ দেন, “সিট্রাস, ইউক্যালিপটাস, ফলের ঘ্রাণ বা ওকমস ধরনের পরিষ্কার গন্ধ সবচেয়ে বেশি উপযোগী।”

অ্যারিয়ানা ক্যাস্ট্রোর গবেষণাতেও দেখা গেছে, বাথরুমে মানুষ সাধারণত সতেজ এবং হালকা ঘ্রাণ বেশি পছন্দ করে।

অন্যদিকে সোডারহলম বলেন, “অতিথি ব্যবহৃত বাথরুমে আপনি নিজের পছন্দের সাহসী ঘ্রাণ ব্যবহার করতে পারেন। প্যাচুলি বা ভেটিভার ধরনের গন্ধ এখানে অন্যরকম আবহ তৈরি করে।”’

খাবার ঘরে খাবারের স্বাদে গন্ধ যেন না মেশে

খাবার পরিবেশনের সময় গন্ধে যেন বিরক্তি না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ক্রিস্টেন পামফ্রে বলেন, “খাবারের সময় মোমবাতি চাইলে ব্যবহার করা যায়। সেটা হতে পারে মৌমাছির মোম দিয়ে তৈরি মোমবাতি, যা হালকা মধুর ঘ্রাণ ছাড়ে তবে খাবারের স্বাদ নষ্ট করে না।’’

খাবার পরিবেশন না থাকলে এই ঘরে কাঠের ঘ্রাণ, অ্যাম্বার, ল্যাবডানাম, ভ্যানিলা, টঙ্কা বিন বা বালসাম ফার ধর্মী হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ ব্যবহার করা যেতে পারে।

অফিস কক্ষ: উদ্দীপনা ও সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা

কর্মক্ষেত্র মানেই সৃজনশীলতা ও উদ্দীপনার কেন্দ্র।

পামফ্রে’র ভাষায়, “এই ঘরে এমন ঘ্রাণ দরকার যা মনকে চনমনে রাখবে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।”

রোজমেরি, আদা, পুদিনা, বারগামট এবং হালকা ফুলের ঘ্রাণ এই ঘরের জন্য আদর্শ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

 

পুরানো সংবাদ
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১