বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড নাকি সালিসিলিক অ্যাসিড: ব্রণের বিরুদ্ধে কোনটি সঠিক?

বয়স, আবহাওয়া, হরমোন, চাপ যে কোনো কিছুতেই ত্বকে দেখা দিতে পারে ব্রণ, লালচে ফুসকুড়ি বা ব্ল্যাক বা হোয়াইট হেডস’য়ের বিরক্তিকর ঝামেলা।

আর এই সময়ে ব্রণের জন্য কার্যকর উপাদান হিসেবে দুটি নামই বেশি উঠে আসে। একটি বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, আরেকটি সালিসিলিক অ্যাসিড।

এই দুই উপাদানই ত্বকের যত্নে ভূমিকা রাখে। তবে এদের কার্যকারিতা, লক্ষ্য এবং প্রভাব একে অপরের থেকে আলাদা।

তাই কোনটি বেছে নেওয়া উচিত তা নির্ভর করে ব্রণের ধরন, ত্বকের প্রকৃতি এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর।

এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক দুইজন বোর্ড-সার্টিফায়েড ত্বক-বিশেষজ্ঞ, ডা. কারমেন কাস্টিলা এবং ডা. জোশুয়া জাইখনার।

বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড কী?

কারমেন কাস্টিলা রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড মূলত একটি অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান, পাশাপাশি এটি মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবেও কাজ করে।

এটি ‘কিউটিব্যাক্টেরিয়াম অ্যাকনিস’ নামক ব্যাক্টেরিয়াকে কমায় করে, যা ব্রণের প্রধান কারণ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়া-রোধীর মতো এই ব্যাকটেরিয়া বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে না। তাই এটি অনেক বেশি কার্যকর এবং ডার্মাটোলজিস্টদের কাছে প্রিয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডার্মাটোলজিস্ট ডা. জোশুয়া জাইখনার বলেন, “বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড হল ‘ফায়ার এক্সটিংগুইশার’য়ের মতো— এটি ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং ব্রণের ব্যাক্টেরিয়ার মাত্রা হ্রাস করে।”

বিশেষ করে যেসব ব্রণ লালচে, ফুলে ওঠে বা ব্যথা দেয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

তবে এটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উচ্চ মাত্রায় ব্যবহারে এটি ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা বা লালচেভাব তৈরি করতে পারে।

এছাড়া এটি কাপড়, তোয়ালে কিংবা বালিশের কাভারেও দাগ ফেলে দিতে পারে। মূলত এটি ব্লিচিং করে ফেলে।

সালিসিলিক অ্যাসিড কী?

অন্যদিকে, সালিসিলিক অ্যাসিড হল- একটি বেটা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড, যা রাসায়নিকভাবে এক্সফোলিয়েট করে এবং ত্বকের মৃত কোষ ও অতিরিক্ত তেল অপসারণে সাহায্য করে।

ডা. কাস্টিলা বলেন, “সালিসিলিক অ্যাসিড ত্বকের কোষগুলোর মধ্যে বন্ধন ভেঙে ফেলে এবং গভীরে প্রবেশ করে ছিদ্র পরিষ্কার করে। এটি মূলত ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং অতিরিক্ত তেলের কারণে তৈরি হওয়া হালকা ধরনের ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।”

ডা. জাইখনার একে তুলনা করেন পাইপ ক্লিনারের সঙ্গে, যা ছিদ্রের ভেতরের আবর্জনা পরিষ্কার করে।

তবে এরও কিছু ঝুঁকি রয়েছে। সালিসিলিক অ্যাসিড ব্যবহারে ত্বকে জ্বালা, লালচেভাব এবং সূর্যের আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের সময় প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

পার্থক্য কোথায়?

দুই উপাদানের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল- দুটি উপাদান কীভাবে ব্রণকে প্রভাবিত করে।

বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড সরাসরি ব্রণ হওয়ার প্রধান কারণ, অর্থাৎ ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে। আর সালিসিলিক অ্যাসিড ত্বকের ছিদ্র পরিষ্কার করে ব্রণের সম্ভাব্য উৎস বন্ধ করে দেয়।

এই ভিন্ন কৌশল অনুযায়ী, বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড ভালো কাজ করে- প্রদাহজনিত ব্রণ (লাল, ফুলে ওঠা, সিস্টিক অ্যাকনে) এসবের ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে, সালিসিলিক অ্যাসিড হালকা ব্রণ, যেমন- ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং তৈলাক্ত ত্বকে বেশি কার্যকর।

একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে কি?

দুই ত্বক-বিশেষজ্ঞের মত হচ্ছে- যদিও এই দুই উপাদান আলাদাভাবে কাজ করে। তবে একে অপরের পরিপূরক হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য।

তবে একসঙ্গে ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ব্যবহার করতে হবে সচেতনভাবে এবং ধাপে ধাপে।

কোনটি বেছে নেওয়া উচিত?

যদি ত্বকে লালচে, ফুলে ওঠা বা ব্যথাযুক্ত ব্রণ হয় তাহলে বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড হতে পারে প্রথম পছন্দ।

আর যদি সমস্যা হয় ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস বা অতিরিক্ত তেল তাহলে সালিসিলিক অ্যাসিড বেশি উপযোগী হবে।

ডা. কাস্টিলা বলেন, “বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড এবং সালিসিলিক অ্যাসিড- দুটাই ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়। আর প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারের পরও যদি উন্নতি না হয়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

 

পুরানো সংবাদ
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১