জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের জনগণ ‘ঐক্যবদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার রাতে গুলশানের একটি হোটেলে এক সংলাপে তিনি বলেন, “এখানে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন যে কিছুটা বিভেদ আছে, বিভাজন আছে। সেটা জনগণের মধ্যে নেই।
“রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মত ও পথে কিছুটা মতপার্থক্য থাকতেই পারে, যেটা স্বাভাবিক।”
‘ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য্য’ শীর্ষক এই জাতীয় সংলাপ আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু সব সময় ঐক্যবদ্ধ থেকেছে প্রয়োজনের সময়ে। প্রতিটি ক্রান্তিকালে, প্রতিটি সংকটে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে, তারা দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করেছে, দেশকে রক্ষা করেছে।
“আপনারা সেই তিতুমীরের পরে থেকে শুরু করেন, একেবারে ’২৪ পর্যন্ত আসেন, দেখবেন প্রতিটি সময়ে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রত্যেকটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার জন্য।”
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলেন, সত্তরের নির্বাচন বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বলেন, সর্বক্ষেত্রে মানুষ এক হয়ে লড়াই করেছে তাদের নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবার জন্য। বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে, তারা ঐক্যবদ্ধ থাকে তাদের প্রয়োজনের সময়ে।”
‘জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে হবে’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “মূল ব্যাপারটা হচ্ছে যে, জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে হবে। জনগণের সার্বভৌমত্বকে নিশ্চিত করতে হবে… আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আমাদের অন্যান্য বিষয়গুলো অত্যন্ত সহজ হয়ে আসবে।
গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে পদে পদে বাধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই জায়গায় আজকে আমাদের একমত হতে হবে। আমার ধারণা, আমরা সবাই এই ব্যাপারে একমত হয়েছি।
“অনেকে নেতিবাচক কথা বলছেন, আমি কিন্তু খুব ইতিবাচকভাবে দেখতে পারছি সামনে। বাংলাদেশের মানুষ তর্ক করছে, বির্তক করছে, আলোচনা করছে এবং তার মধ্য দিয়ে তারা একটা জায়গায় এসে পৌঁছাচ্ছে।”
আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে একটা জায়গায় পৌঁছানো, যেখান থেকে সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ করবার জন্যে সঠিক পথ খুঁজে বের করতে পারবেন, এমন বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে আমরা মনে করি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এটাকে শক্তিশালী করতে পারলে জাতীয় নিরাপত্তা আমি নিশ্চিত করতে পারব এবং অন্যান্য বিষয়গুলোকেও আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
“সেই কারণে আমি বলব, আসুন আজকে কোনো নীতিবাচক চিন্তা না করে এই যে, সামনের সময়টুকু, যে সময়ের মধ্যে আমরা দেশকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে যেতে চাই, সেখানে আমরা যেন দ্রুত যেতে পারি, তার জন্য আমরা সবাই যেন কাজ করি।”
‘রাষ্ট্র সংস্কার, আমরা বহু আগেই বলেছি’
মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রশ্নটা হচ্ছে, গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়া, প্রশ্নটা হচ্ছে, গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটানো, প্রশ্নটা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করা… আমরা রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলেছি অনেক আগেই বলেছি… ২০১৬ সালে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি, ২০২৩ সালে ৩১ দফার কথা বলেছি যেখানে পুরো রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি।”
সমস্যা কোথায়, তা বুঝতে না পারার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, আমাদের চিন্তা-ভাবনার মধ্যে, এই জায়গায়টায় আমাদের এক হওয়া দরকার, অর্থাৎ আমরা সবাই এক হয়ে এগুনো দরকার।”
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন মত থাকবেই, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সেই মতগুলোকে আমরা এক জায়গায় নিয়ে এসে, আমরা অন্তত এক জায়গায় আসি যে, আমরা গণতন্ত্রে ফিরে যাব, জনগণের ক্ষমতায়ন করব, জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেব। সেই কাজ ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে জনগণ তার মতকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং সত্যিকার অর্থেই একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে।”
এফএসডিএস সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবরের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক সেনা প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন খান, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, এনডিএম নেতা ববি হাজ্জাজ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, লেখক ও কলামনিস্ট ফরহাদ মজহার, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা।

































