যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের আগে দিয়ে গাজার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভারি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রোববার ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি করুন, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনুন।” এর পরদিনই ইসরায়েলের কৌশল বিষয়কমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রন ডারমার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেন।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও ওয়াশিংটনের একটি সূত্র জানায়, গাজা ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ডারমার।
তবে গাজায় মাঠ পর্যায়ে লড়াই থামার কোনও আভাস নেই। বরং সোমবার সকাল থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে যেতে বলে। এর পরই স্কুল, ঘরবাড়ি ও জনবহুল এলাকায় চালানো হয় হামলা।
“বিস্ফোরণের শব্দ থামেনি। স্কুলে, বাড়িতে বোমা পড়েছে। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে,” বলেন গাজা সিটির ৬০ বছরের বাসিন্দা, সালাহ। “আমরা কেবল খবরেই দেখি যুদ্ধবিরতি হবে, কিন্তু বাস্তবে আমরা শুধু মৃত্যু আর ধ্বংস দেখছি।”
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইসরায়েলি হামলায় গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় ১০ জন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও অন্তত ১৩ জন নিহত হন। চিকিৎসকরা জানান, বেশির ভাগ মানুষ গুলিতে নিহত হলেও বাসিন্দারা বলছেন, বিমান হামলাও হয়েছে।
গাজায় এক সমুদ্রতীরবর্তী ক্যাফেতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী, শিশু এবং একজন স্থানীয় সাংবাদিকসহ আরও ২২ জন নিহত হন। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সমিতির দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২২০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
গাজা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার অন্তত চারটি স্কুলে বিমান হামলা চালানো হয়, যেখানে শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হামাসের “কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছে।
তবে দক্ষিণ-পশ্চিম গাজায় হামলা ও ক্যাফেতে নিহতদের বিষয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল বলছে, গাজার উত্তরের যেসব এলাকায় তারা আগেও অভিযান চালিয়েছে, সেসব স্থানে ফের হামাসের উপস্থিতি রয়েছে। তাই নতুন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ জন্য বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যেতে বলা হয়েছে।

































