বিকেল সাড়ে পাঁচটা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে দুজন তরুণ ট্রাফিক সহায়ক দৌড়ে যান একদিকে অটোরিকশা থামাতে, পরক্ষণেই ছুটে যান উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির দিকে। ঢাকার বিশৃঙ্খল রাস্তায় কিছুটা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা তাঁদের। পাশে রয়েছেন এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যও। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা দেখা দেয়। তখনই শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অংশ নেন। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যৌথ উদ্যোগে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন ট্রাফিক সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
খণ্ডকালীন চাকরি, কিন্তু অনিশ্চিত সুবিধা
প্রতিদিন চার ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা পান ৫০০ টাকা। মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিতভাবে বিলম্ব হচ্ছে। জুন ও জুলাই মাসে অনেকে বেতনই পাননি। অনেকেই টিউশনি ছেড়ে এই কাজে আসায় আর্থিক চাপে পড়েছেন। সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুহাম্মদ মিয়ান বলেন, ‘এই শহরের ট্রাফিক সামলানো খুব কঠিন। প্রতি সেকেন্ডে সতর্ক থাকতে হয়। আমরা শুধু আইন মানাতে নয়, পুলিশ ও মানুষের দূরত্ব কমাতেও কাজ করছি। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ।’ দায়িত্ব শুরু করার আগে শিক্ষার্থীরা মাত্র এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ ও একটি ভেস্ট পেয়েছেন। আইডি কার্ড এখনো দেওয়া হয়নি। অনেকেই ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সনদ পাওয়ার আশায় এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। তবে নিয়মিত বেতন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

































