উদার ও সহিষ্ণু সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শিক্ষক, আইনজীবী, কবি, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংগীত বিষয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
বক্তারা আরও বলেন, এই দেশে সুরের চর্চা শুরু হয়েছিল সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খানের হাত ধরে। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে কোমলমতি শিশুদের মননশীলতার বিকাশে সংগীত ও শরীরচর্চার শিক্ষা অপরিহার্য। বক্তারা অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সংগীত ও শরীরচর্চার শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুন নুরের সভাপতিত্বে ও ফাহিম মুনতাসিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিক, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপদেষ্টা আহমেদ হোসেন, সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ এর সভাপতি মানবর্ধন পাল, সহ সভাপতি ডা. অরুণাভ পোদ্দার, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, সাহিত্য একাডেমির জামিলুর রহমান, আইনজীবী অসীম কুমার বর্দ্ধন, সুলতাল সঙ্গীত নিকেতন এর কর্ণধার দেবাশীষ দেবু, জেলা খেলাঘর এর সাধারণ
সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, কবির কলম সভাপতি হুমায়ুন কবির, সোনালী সকাল এর বশির আহমেদ ও তাওসিদ আলম তাজিম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রেখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। কিন্তু ধর্মভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে সরকার পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।



































