কম্বোডিয়ায় স্কুলের ভেতরে মিলল হাজারো বিস্ফোরক-গোলাবারুদ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ার একটি স্কুলের ভেতর থেকে হাজার হাজার বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় অবস্থিত ওই স্কুল থেকে উদ্ধার করা এসব বিস্ফোরকের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি এবং এর জেরে স্কুলটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজার হাজার অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর উত্তর-পূর্ব কম্বোডিয়ায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নৃশংস গৃহযুদ্ধের অবসানের ৪৮ বছর পরও বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইন স্থাপন করা দেশগুলোর একটি হিসেবে রয়ে গেছে কম্বোডিয়া।বিবিসি বলছে, উত্তর-পূর্ব কম্বোডিয়ার ক্রাটি প্রদেশের কুইন কোসোমাক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ এই বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের সময় এই স্কুলটিকে একটি সামরিক ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করা হতো।

হাজার হাজার অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়ার পর সেগুলোর বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়। এসব ছবিতে বিপুল পরিমাণ মরিচা-ধরা বিস্ফোরক সুন্দরভাবে সারিবদ্ধভাবে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। উদ্ধারকৃত এসব বিস্ফোরকের মধ্যে গ্রেনেড এবং অ্যান্টি-ট্যাংক লঞ্চারও রয়েছে।

কম্বোডিয়ান মাইন অ্যাকশন সেন্টারের মহাপরিচালক হেং রাতানা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তিন দিনে মোট দুই হাজারেরও বেশি অস্ত্রশস্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। তিনি বলেন, একটি বাগানের আয়তন বাড়ানোর জন্য মাঠটি পরিষ্কারের কাজ করার সময় এসব অস্ত্র খুঁজে পাওয়া যায়। যদি পুরো স্কুলের আঙিনাটি পরিষ্কারের কাজ করা হয় তবে সম্ভবত আরও অস্ত্র পাওয়া যাবে।

হেং রাতানা বলেন, ‘এটি শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। যদি কেউ মাটি খুঁড়ে এবং এই বিস্ফোরক ডিভাইসগুলোতে আঘাত করে তবে এগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো সহজ।’বিবিসি বলছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কম্বোডিয়ার আট বছরের গৃহযুদ্ধ ১৯৭৫ সালে শেষ হয়। তবে গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও এই বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি পরবর্তী সময়ে বেশ ভুগেছে।

দ্য হ্যালো ট্রাস্টের তথ্য অনুসারে, সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ল্যান্ডমাইনগুলোর কারণে ১৯৭৯ সাল থেকে কম্বোডিয়ায় ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে মাইনের আঘাতে দেশটিতে ২৫ হাজার মানুষের অঙ্গচ্ছেদের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

অবশ্য ২০২৫ সালের মধ্যে সমস্ত ল্যান্ডমাইন এবং অবিস্ফোরিত কামানের গোলা উচ্ছেদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কম্বোডিয়া সরকার।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আজকের দিন-তারিখ
  • মঙ্গলবার (রাত ৪:৪৩)
  • ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
  • ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com