রাবির হল ডাইনিংয়ে খাবারের দাম বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলের ডাইনিংয়ে দুই বেলা খাবারে ১০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দুপুরের খাবারের দাম ৩৫ এবং রাতের খাবারের দাম ২৫ টাকা করে নেওয়া হবে। এর আগে, দুপুরের খাবারের দাম ছিল ২৮ এবং রাতের ২২ টাকা। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তবে, এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ডাইনিং পরিচালকেরা বারবার খাবারের দাম বৃদ্ধির জন্য বলে আসছিলেন। কেননা দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে খাবার বিক্রি করে তাদের ঘাটতি থাকছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও ডাইনিং পরিচালকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেভাবে আলোচনা করে দাম বৃদ্ধি করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার ৪ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল ডাইনিংয়ে দুপুরের খাবার ৩৫ টাকা এবং রাতের খাবার ২৫ টাকা মূল্যে বিক্রি হবে। পূর্বে দুপুরে ২৮ টাকা এবং রাতে ২২ টাকা নির্ধারিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে দুবেলায় ১০ টাকা বৃদ্ধি পেল। এ ছাড়া ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে দুবেলা খাবারে ৮ টাকা বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তখন খাবারের দাম ছিল দুপুরে ২৪ টাকা ও রাতে ১৮ টাকা। এ নিয়ে দেড় বছরের ব্যবধানে ডাইনিংয়ে ১৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলো।

এদিকে, প্রাধ্যক্ষ পরিষদের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দুবেলা খাবারে যে পরিমাণ মাছ-মাংসের টুকরো দেয়, এতে একপ্লেট খাবার শেষ করে ওঠা যায় না। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কথা বলে প্রতিদিন ডাইনিংয়ে একই ধরণের স্বাদহীন নিম্ন মানের খাবার বিক্রি করা হয়। এক বছর আগেই ৮ টাকা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় মান বৃদ্ধি পায়নি। প্রশাসন হলগুলোতে খাবারের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব প্রাধ্যক্ষদের দিলেও সেটা পালন করেননি তারা। আবারও একই কায়দায় দাম বাড়ানো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করেন তারা।

হলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে দুবেলা খাবারে ৮ টাকা বৃদ্ধির পর প্রাধ্যক্ষদের নিয়মিত খাবারের মান পর্যবেক্ষণ এবং পুষ্টি চাহিদা পূরণে সুষম খাবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু গত দেড় বছরে কোনো হলই সেটা করেনি। ফলে দাম বাড়িয়ে উল্টো মান কমিয়েছে দাবি করে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

নাগরিক ছাত্র ঐক্য রাবি শাখার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এই আয়োজনে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে পড়ালেখা করতে আসে। হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের খাবারে পুষ্টিগুণ নাই বললেই চলে। শুধু ক্ষুধা মেটাতে হলের খাবার খান শিক্ষার্থীরা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে শিক্ষার্থীদের যখন নাভিশ্বাস অবস্থা, তখন এই সিদ্ধান্ত মরার উপর খাড়ার ঘা।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি শাকিল আহমেদ বলেন, ‘পূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলে খাবারের দাম বাড়িয়েছে, কিন্তু মান বাড়েনি। ফলে খাবারে পুষ্টি-গুণ পূরণ হয় না। অথচ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে অনেকের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ডাইনিংয়ে কোসঘ রকম খেয়ে তারা টিকে আছেন। এই পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খুবই হতাশাজনক। এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জনাই।’

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ভর্তুকি দিয়ে হলে খাবারের মান বৃদ্ধির দাবি জানান শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের এই নেতারা।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। আপত্তি থাকলে বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আজকের দিন-তারিখ
  • বৃহস্পতিবার (ভোর ৫:০৭)
  • ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি
  • ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com