সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার। পৃথিবীর কোনো স্বার্থ কিংবা দ্বন্দ্বে তার ভূমিকা নেই। অথচ তার সঙ্গেই ঘটেছে পাশবিক নৃশংসতা। ঢাকার পল্লবীতে এই শিশুকে টয়লেটে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন পাশের ফ্ল্যাটে থাকা দম্পতি সোহেল রানা (৩০) এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬)। গত ১৯ মে সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গলাকাটা অবস্থায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করতে চেয়েছিলেন তারই প্রতিবেশী বাবু শেখ। মৃত ভেবে শিশুটিকে তিনি ফেলে যান পাহাড়ের খাদে। গত ১ মার্চ গলাকাটা অবস্থায় দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া ওই শিশু পরদিন ২ মার্চ দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল (চমেক) কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
তিন বছরের ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু হাবিব। রাজধানীর বাড্ডার এই শিশু জন্মদাতার চরম নিষ্ঠুরতায় পৃথিবী ছেড়েছে। যে হাত তাকে পরম নির্ভরতায় আগলে রাখার কথা, সেই হাত তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। গত ২৭ এপ্রিল স্ত্রী শিল্পী খাতুনের কাছে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে তার সামনে সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করেন শাহিন মিয়া। একইদিন গাজীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে গলা কেটে ও পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে।
শিশু রামিসা, ইরা কিংবা তিন বছরের হাবিবই শুধু নয়, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৬ মাসে (২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল) হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৫২২ শিশুকে। গড়ে মাসে ৩২ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে। এ সময়ে ধর্ষণসহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২২৩ শিশু। গড়ে মাসে ৭৬ জনের বেশি শিশু ধর্ষণসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, মাদকের অবাধ ব্যবহার, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব, সাইবার দুনিয়ার প্রতি নিয়ন্ত্রণহীন আসক্তি ও পারিবারিক বন্ধন ঢিলে হয়ে পড়ার শিকার হচ্ছে শিশুরা। সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা পরিবারে শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলছে। বড়দের ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভ-দ্বন্দ্বের কাছে নৃশংস হয়ে উঠছে কোমলমতি শিশুর স্বস্তির পৃথিবী। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো, প্রতিশোধ কিংবা অপরাধ আড়াল করতে কখনো মা-বাবাসহ আপনজন হয়ে উঠছেন শিশুদের ঘাতক।
































