মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা দেখিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন : কমলা হ্যারিস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে মার্কিন ইতিহাসে ব্যর্থতম বলে আখ্যা দিলেন ডেমোক্রেটিক দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিস। নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ইউটা অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক পেন্সের সঙ্গে তর্কযুদ্ধের (ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট) মঞ্চে এ কথা বলেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিস। সংবাদ সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর কমলা হ্যারিস বলেন, ‘মার্কিন জনগণ আমাদের দেশের ইতিহাসে ব্যর্থতম প্রশাসনকে দেখেছে।’

এ ছাড়া কোভিড-১৯-এর ঝুঁকির বিষয়ে আগে থেকে জেনেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেন কমলা হ্যারিস।

কমলা হ্যারিস বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, করোনাভাইরাস গুজবমাত্র। তারা (ট্রাম্প প্রশাসন) করোনার ঝুঁকিকে খাটো করে দেখিয়েছে।’

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। তার আগেই দেশটিতে নানা ইস্যুতে আলোচনা জোরদার হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান নাকি ডেমোক্র্যাট—কারা এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সফল হবে, তা নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, একই সঙ্গে এ বছর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ-এশিয়ান এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিনি কমলা হ্যারিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়া বাড়তি আগ্রহ যোগ করেছে।

আর এই প্রেক্ষাপটেই আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবার রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মাইক পেন্সের বিরুদ্ধে তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন কমলা হ্যারিস।

মার্কিন নির্বাচনে এ বছর অনেকগুলো বড় ইস্যু রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ওপরে রয়েছে নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারি। একই সঙ্গে মানবাধিকার, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের নানা অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়ে বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে। এ সবকিছু নিয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ডেমোক্র্যাটরা আক্রমণ শানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে তারাই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা এ ইস্যুতে সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট ও একটি ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট। প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের পরদিন, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর মার্কিন ভোটারদের মধ্যে জরিপটি চালায় গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম এনবিসি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিতর্ক একটি অন্যতম অনুষঙ্গ এবং এটি নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন নিতে হলেও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে প্রার্থীদের প্রজ্ঞা, মেধা, সহনশীলতাসহ অনেক কিছু সম্পর্কে ধারণা পান ভোটাররা। আগামী ১৫ অক্টোবর ফ্লোরিডার মায়ামি ও ২২ অক্টোবর টেনেসির ন্যাশভিলে ট্রাম্প-বাইডেনের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com